গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকটি সুদহার দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ২ দশমিক ২৫ শতাংশ করেছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের শীর্ষ ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭-এর মধ্যে ইসিবি প্রথম কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে সুদহার বাড়াল। খবর ইউরো নিউজ ও ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
জার্মানির ফ্রাংকফুর্টে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইসিবির গভর্নিং কাউন্সিল সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় মূল্যস্ফীতি তীব্র হচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই সুদহার বাড়ানো হয়েছে। নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে ইউরোজোনের দেশগুলোয় ঋণের খরচ এক বছর আগের অবস্থায় ফিরে গেল।
বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসিবির প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দে বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য এ পদক্ষেপ নেয়া খুবই জরুরি ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি বাজারে যে বড় ধাক্কা লেগেছে, তা ধারণার চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। ফলে উচ্চ জ্বালানি খরচ এখন সাধারণ অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।’
অবশ্য বিশ্ব অর্থনীতিবিদদের অনেকে মনে করছেন, এটি আগাম বা সতর্কতামূলক কোনো পদক্ষেপ নয়। বরং বর্তমান বাস্তবতায় এটি একটি যুক্তিযুক্ত মুদ্রানীতি সিদ্ধান্ত। তবে ক্রিস্টিন লাগার্দে স্পষ্ট করে বলেননি যে ভবিষ্যতে সুদহার আরো বাড়ানো হবে কিনা। ইসিবি সাধারণত প্রতিটি বৈঠকের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।
সুদহার বাড়ানোর পাশাপাশি ইসিবি এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক পূর্বাভাসও পরিবর্তন করেছে। ব্যাংকটি চলতি ও আগামী বছরের জন্য মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছে। নতুন প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি বছরে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়াবে ৩ শতাংশে। ২০২৭ সালে তা কমে ২ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে। অন্যদিকে চলতি বছরের প্রবৃদ্ধি আগের প্রাক্কলিত দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৮ শতাংশ করা হয়েছে।